পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় দুর্নীতির আঁখড়া, অর্থ ছাড়া মেলেনা সেবা

  • পিরোজপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় এখন দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিনত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম না মেনে কর্মকর্তারা মনগড়া অফিস চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি মাসের মধ্যে ৭ থেকে ৮ দিন অফিস করেন এবং নিয়মিত ফিল্ডে ভিজিটে যান না বিষয়টি সম্পর্কে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খোলেন না।

এ ঘটনায় মো. কাল্লু মিয়া নামে এক ব্যক্তি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে লিখিত অভিযোগ দেন। যাহার অনুলিপি ডাক যোগে স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে প্রেরণ করা হয়। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা অফিসে মেডিকেল অফিসার ডা. সুমাইয়া আক্তার রুপা, আবুল কালাম আজাদ (হিসাব শাখা) ও অফিস সহায়ক হাজেরা আক্তার এই তিনজন কর্মকর্তার দায়িত্বের অবহেলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেল অফিসার ডা. সুমাইয়া আক্তার রুপার বিরুদ্ধে ফিল্ড ভিজিটে গাফিলতি, নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত, উপজেলার মাসিক আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে অনুপস্থিত, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বদলির কাগজে টাকা (ঘুষ) ছাড়া সহি না করা, অফিসের ইমপ্লান্ট নিজে না পড়ে নন টেকনিক্যাল পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা স্মৃতি রানী সরকারকে দিয়ে পড়ানোসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি আবুল কালাম আজাদ গোডাউন রক্ষক (হিসাব শাখা) সপ্তাহে ২/৩ দিন অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেন না মেডিকেল অফিসার ডা. সুমাইয়া আক্তার রুপা। বিষয়টি জানতে গেলে ছুটি নেয়া হয় বলে চালিয়ে দেন গণমাধ্যম কর্মীদের।

এদিকে গত কয়েক বছর আগে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে একটি সমিতি ছিলো। সেই সমিতির তখনকার দায়িত্বে ছিলেন খায়রুল ইসলাম পনির নামের এক কর্মকর্তা। সড়ক দুর্ঘটনায় পনিরের মৃত্যুর পরে অফিস থেকে পাওয়া টাকা ডা. সুমাইয়া আক্তার রুপা ও আবুল কালাম আজাদ এই দুইজনে চক্রান্তের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে সমিতির টাকা পরিশোধ না করে স্ত্রী সালমা সুলতানাকে দিয়ে দেন। যার কারনে সেই সমিতিটি আজ বিলুপ্তির পথে। পরিবার পরিকল্পনা অফিস নিয়মিত সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চালু থাকার কথা থাকলেও ১০টার আগে অফিস খোলা হয় না এবং বিকাল ৩ টার আগেই যে যার মতো চলে যায়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাঠ পরিদর্শীকা জানান, আমরা সময়মতো কর্মকর্তাদের সেবা পাচ্ছি না। যার কারনে মাঠে আমাদের দিনদিন গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা মুখ খুলতে গেলে চাকরি হারানোর হুমকি আসে। আমরা এর প্রতিকার চাই এবং নিয়মিত অফিস পরিচালনার জন্য কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানাই। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্যে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে একাধিকবার গেলেও মেডিকেল অফিসার ডা. সুমাইয়া আক্তার রুপাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাকিল সরোয়ার বলেন, তাদের ডিপার্টমেন্ট এবং আমাদের ডিপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে আমার কোন হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। 

এ বিষয়ে বিভাগীয় সহকারি স্বাস্থ্য পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগটি এখনো হাতে পায়নি। তবে আপনাদের মাধ্যমে যেহেতু বিষয়টি শুনেছি। আমি পরিচালক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করবো এবং লিখিত অভিযোগটি হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম