ঈশ্বরদীতে ‘মধু বিপ্লব’, উৎপাদনেও রেকর্ড

  • আলমাস আলী, ঈশ্বরদী (পাবনা ) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে লিচুর মুকুল থেকে মধু আহরণে এবার রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। বসন্তের শেষ সময়ে উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ লিচু বাগানে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গাছের নিচে থরে থরে সাজানো মৌ বাক্স থেকে সংগৃহীত মধুতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৌচাষীদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লিচুর ফুল থেকে প্রায় ২৩ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ১ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে লিচুর ফুল থেকে মধু আহরণ করা হয়। এতে ব্যবহৃত মৌ বাক্সের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩১০টি। উপজেলার মোট ১১ হাজার ২৭০টি লিচু বাগান মৌচাষের জন্য উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় মৌচাষীরা জানান, লিচু মৌসুমে টানা এক মাস মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। প্রতি ৬ থেকে ৭ দিন পর পর প্রতিটি বাক্স থেকে মধু আহরণ করা যায়। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও ব্যাপক মুকুলের কারণে উৎপাদন বেড়েছে।

একজন মৌচাষী জানান, তিনি একাই প্রায় ৩ টন মধু সংগ্রহ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। লিচুর পাশাপাশি আম, সরিষা, কালোজিরা, ধনিয়া ও শিমুল ফুল থেকেও বছরের প্রায় সাত মাস মধু সংগ্রহ করা হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, এ বছর লিচু ও আমের মুকুল রেকর্ড পরিমাণ হওয়ায় মধু উৎপাদনও বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌচাষীরা এখানে এসে মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, লিচুর ফুলে মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করায় ফলনও বাড়ে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়। এতে একদিকে লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

কৃষি বিভাগের মতে, লিচু মৌসুমে মধু উৎপাদনের এই সাফল্য ঈশ্বরদীতে ‘মধু বিপ্লব’ হিসেবে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসএইচ