জটিলতা কাটিয়ে শেষ ধাপে রূপপুর প্রকল্প, এপ্রিলের শেষেই উদ্বোধন

  • আলমাস আলী, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি এপ্রিলের শেষেই ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান। এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং উদ্বোধনের প্রস্তুতি থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে আসায় তা স্থগিত করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি লোডিংয়ে এগোয়নি তারা। প্রয়োজনীয় সব কারিগরি ও নিরাপত্তা বিষয় যাচাই-বাছাই শেষে এখন এ কার্যক্রম শুরুতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের সময় সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, অগ্নি নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে বায়রার লাইসেন্স না পাওয়ায় ৭ এপ্রিল নির্ধারিত উদ্বোধন স্থগিত করা হয়। যদিও ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে বায়রার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলমান।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

এসএইচ