আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, পরিবার ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা

  • বরিশাল প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেননের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা। পরিবারের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে পুলিশ বলছে, তার মৃত্যুর সঙ্গে পুলিশের কোনো ধাওয়া বা অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বরিশাল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ খান মেনন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরে কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল রাশেদ খান মেননের বাসায় যায়। এ সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির ছাদ অথবা পেছনের অংশ দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে পালানোর সময় নিচে পড়ে গিয়ে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে এখনও ভিন্নমত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও পরিবারের সদস্যরা এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু দাবি করে মরদেহ নিয়ে যান।

অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, রাশেদ খান মেনন কয়েকটি মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। তবে তাকে ধরতে গিয়ে কোনো ধাওয়া বা তাড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের সদস্যরা তার বাসায় গেলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি বাসায় নেই। পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।

ওসি  জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন রাশেদ খান মেননের হৃদরোগজনিত সমস্যা ছিল এবং তার হার্টে রিং পরানো ছিল। তিনি বাসার ছাদে হাঁটাহাঁটির সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে আহত হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তবে স্বজনরা এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দাবি করে মরদেহ গ্রহণ করেছেন।

পিএস