পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ বুধবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে তিনি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) চিকিৎসক কাবেরী শাহ বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
মকলেছুর রহমান বাবলু ঈশ্বরদী শহরের ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আফসার উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ রাত ১০টায় ফতেমোহাম্মদপুর লোকো ফুটবল মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাসভবনে ছুটে যান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ এবং পাবনা চার আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মকলেছুর রহমান বাবলু ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই মকলেছুর রহমান বাবলুকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই মামলায় তাঁকে খালাস দেন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এসএইচ