পদ্মায় বিলীন ৩৫ বসতঘর, ভাঙনের মুখে লালপুরের শতাধিক পরিবার

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০২:০০ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

​নাটোর: নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে গত তিন দিনে পদ্মার ভাঙনে অন্তত ৩৫টি বসতঘর ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

চোখের সামনে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই এখন পার্শ্ববর্তী চরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও শতাধিক পরিবার ও ফসলি জমি চরম হুমকির মুখে রয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর চরে সরেজমিনে নদীভাঙনের এই তীব্র চিত্র দেখা গেছে। কূলঘেঁষে তীরের মাটি ধসে পড়ার পাশাপাশি মুহূর্তেই আবাদি জমি নদীর স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

​ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমার নিজের ঘর নদীতে চলে গেছে। পরিবার নিয়ে পাশের চরে কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছি। নতুন করে আবার ভাঙন শুরু হলে কোথায় যাব, তা বুঝতে পারছি না।”

বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে ভাঙন ব্যাপক রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৫টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে এবং আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চরের বড় অংশ নদীতে হারিয়ে যাবে।

​ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে জরুরি ত্রাণ ও সার্বিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নদীতীর রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

​এদিকে নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, নদীভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে অবিলম্বে নদীতীর সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং জরুরি খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

পিএস