সাভার: ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আটক জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে রোববার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ঢাকার মালিবাগ জোনে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকালে আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আলতাফ হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আহত বাবা-ছেলেকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম (২৬) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে আলতাফ হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিএস