পটুয়াখালী: দীর্ঘ ১২ বছর পর ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রস্তাবিত পে-স্কেলের বিভিন্ন অসংগতি ও বৈষম্য দূর করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন (গেজেট) প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া, বৈশাখী ভাতা, শিক্ষা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা পুনর্বিবেচনা এবং পে-ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীতে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহাবুদ্দিন মুন্সী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, দীর্ঘদিন পর ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে প্রস্তাবিত পে-স্কেলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অসংগতি থাকলে তা এখনই সংশোধন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ প্রস্তাবিত কাঠামোতে যদি বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে অনেক কর্মচারীর প্রত্যাশা পূরণ হবে না। বিশেষ করে প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা বাদ দিয়ে হাতে যে সামান্য অর্থ আসার কথা বলা হচ্ছে, তা কর্মচারীদের কাছে হতাশাজনক।
আবদুল মালেক বলেন, “প্রথম ধাপে ১ হাজার ৩৫২ টাকা পাওয়ার কথা ঘরের বউই বিশ্বাস করে না, পাবলিক বিশ্বাস করবে কীভাবে? সাধারণ মানুষ মনে করছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেই ধারণার সঙ্গে দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে। অথচ এখনো পে-স্কেলের গেজেট হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির পরিবর্তে কোথাও ৫ শতাংশ, কোথাও ১০ শতাংশ কমানোর সুপারিশের খবর কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নেই। তাই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
পে-ফিক্সেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য থেকে ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব জটিলতা এড়াতে সংগঠনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ভাতাসমূহ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে; কিন্তু মূল বেতন একধাপে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কারণ ভেঙে ভেঙে বেতন নির্ধারণ করলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রধান আলোচক আশিকুল ইসলাম বলেন, সচিব কমিটির গোপনীয় সুপারিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “যেহেতু এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি, তাই কর্মচারীদের উত্থাপিত অসংগতিগুলো সংশোধনের সুযোগ এখনো রয়েছে। এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা না করে গেজেট প্রকাশ করা হলে কর্মচারীদের ক্ষোভ কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে।”
আশিকুল ইসলাম আরও বলেন, পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে বাজারে দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। এর প্রভাব শুধু সরকারি কর্মচারীদের ওপর নয়, সাধারণ মানুষও এর ভুক্তভোগী। তাই একটি বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, সকল ভাতা পুনর্বিবেচনা, পে-ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার জটিলতা নিরসন এবং কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন খান, সহ-সভাপতি মো. আজির রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. রাসেল শেখ, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, গণঅধিকার পরিষদ বাউফলের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একই সঙ্গে কর্মচারীদের যৌক্তিক প্রত্যাশা ও অসংগতিগুলো সমাধান করেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
পিএস