পিরোজপুরে পুরানো রাস্তায় দেয়াল-টিনের বেড়া, অবরুদ্ধ ৪২ পরিবার

  • পিরোজপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

পিরোজপুর: পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৪২টি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল নির্মাণ ও টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ অন্তত দুই শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দেয়াল টপকে, আবার কেউ টিনের বেড়া পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দুই শতাধিক মানুষের দীর্ঘ বছরের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এভাবে দেয়াল ও টিনের বেড়ায় আটকে দেয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আচার্য্যপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সুব্রত আচার্য্য ও সোহাগ আচার্য্যের রাস্তা বন্ধ করে এ ভোগান্তির সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ১১২ জন স্থানীয় বাসিন্দা গণস্বাক্ষর করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত জন উপদ্রুপ বন্ধ করে সবাইকে শান্তিপূর্ণ স্বঅবস্থানে থেকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি বহু পুরোনো এবং সরকারি খাসজমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ চলাচল করে আসছেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০-৪২টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে।

ভুক্তভোগী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের বহু বছরের চলাচলের রাস্তা। এই পথ দিয়ে প্রায় ২০০ মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল ও টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এখন নারী, শিশু ও স্কুল শিক্ষার্থীদেরও দেয়াল-বেড়া টপকে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ কুমার দাস বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তার ভাষ্য, ওই রাস্তা ছাড়া স্থানীয়দের চলাচলের বিকল্প পথ নেই। রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জমিটি খাস বলে তারা জানেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুব্রত আচার্য্য ও সোহাগ আচার্য্য। তাদের দাবি, যে জায়গায় বেড়া দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। যদি খাস হয়ে থাকে তাতেও ফিরোজের কিছু নয়। তাদের দাবি ফিরোজ মিয়া গায়ের জোরে রাস্তা নিতে চাচ্ছে। তারা বলেন, কারও জমি দিয়ে চলাচল করতে হলে আপসের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে হবে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থলে প্রায় চার শতক খাস জমি রয়েছে। তবে রাস্তার জায়গাটি খাস জমির মধ্যে পড়েছে কি না, তা মেপে নিশ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, খাসজমির অংশ যদি রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকে, তাহলে সেখানে কেউ বেড়া দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করতে পারেন না।

এদিকে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় দ্রুত জমির সীমানা নির্ধারণ করে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পিএস