আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আসামিকে নিয়ে মাদ্রাসার কমিটি গঠনের অভিযোগ 

  • সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

সাভার: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও চলমান দেওয়ানি মামলা উপেক্ষা করে তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসার নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কমিটিতে।
‎
‎গত ১১ইঅক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ছয় মাসের জন্য নতুন এই অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেয়। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা সংক্রান্ত সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত।
‎
‎মাদ্রাসার মূল ফটকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নোটিশ টানানো থাকলেও নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল মাদ্রাসা ও এশিয়া আশরাফ মহিলা মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ, আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মালিকানা এবং সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং দায়ের হয়েছে একাধিক ফৌজদারি মামলা।
‎
‎ট্রাস্টের পক্ষ থেকে মাদ্রাসার সার্বিক পরিস্থিতি ও সম্পত্তি সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে ওই নির্দেশের পরও গত ১১ অক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ কে মোহা. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরে নতুন কমিটি অনুমোদনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
‎
‎মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন কমিটির বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন সাঈদকে। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎এর মধ্যে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। চলতি বছরের ১১ মার্চের এজাহারে তাঁর নাম রয়েছে ৮ নম্বরে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর দায়ের করা আরেকটি মামলায় তিনি ৭ নম্বর আসামি।
‎
‎এর আগে গত বছরের ২৫ জুন ডা. মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন সাঈদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ তুলে তাঁকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ২২ সেপ্টেম্বর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন ট্রাস্টের সেক্রেটারির সহকারী এসএটি নুরুজ্জামান।
‎
‎এছাড়া চলতি বছরের ৯ মার্চ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ আরেকটি মামলা করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভাঙচুর ও লাখ লাখ টাকা লুটের অভিযোগেও মামলা হয়। এসব ঘটনার পাল্টা অভিযোগে অভিযুক্ত পক্ষের লোকজনও একাধিক মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
‎
‎আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ কে মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, ট্রাস্ট পরিচালিত মাদ্রাসায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি হাতে পেলে তা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
‎
‎সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রউফ মিয়া বলেন, আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামিকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে তাঁরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
‎
‎এদিকে সার্বিক বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.সাইফুল ইসলাম জানান, নতুন কমিটির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যারা কমিটি এনেছে, তাদের আইনি পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আপাতত কোনো সভা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পিএস