নেত্রকোনায় এবার দোকান কর্মচারীকে গুলি

  • নেত্রকোনা প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার দুদিন পর ফের জেলার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে সুজন পাল (৩৩) নামে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে তাকে গুলি করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠায়। 

আহত সুজন পাল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার মেহেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরে একটি মিষ্টির দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করতেন এবং স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে তিনি মাইলোড়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

সুজন পালের প্রতিবেশীরা জানায়, রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য বের হন সুজন। বাসার পাশেই রামকৃষ্ণ মন্দিরের সামনের পুকুরে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন গিয়ে সুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুজন পালের স্ত্রী টুম্পা পাল বলেন, ঘুম থেকে উঠে বাসার পাশের সড়কে উঠার পর মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার কাছে দুবাই প্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির অবস্থান জানতে চান। এ সময় তাদের একজন অস্ত্র বের করলে সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে গুলি করে। পরে মোটরসাইকেলে করে তারা পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন গিয়ে সুজনকে উদ্ধার করে।  

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, সুজন পালের পিঠে গুলি লেগেছে। সকালে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এখানে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান ও মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। 

ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলমাত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে জেলার দুর্গাপুর পৌরশহরের তেলুনজিয়া এলাকায় একটি মুদি দোকানের সামনে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে (৪০) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (২৭) নামে এক যুবককে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পিএস