ঊর্ধ্বতন মহলের চাপে ধর্ষণ মামলার বাদীকে পাল্টা মামলা

  • সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদীকে আসামি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাল্টা একটি মামলা করা হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা এই মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নতুন করে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীর (৫০) বড় ছেলে মো. উমায়ের। তিনি নিজেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার পরিচালনা সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় নগদ ৪৭ লাখ টাকা, ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং সাত লাখ টাকা মূল্যের আসবাবসহ মোট ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলাটি ঘিরে আলোচনার প্রধান কারণ হলো—এতে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার বাদী ও তাঁর দাদাকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন মহলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখেই মো. উমায়েরের লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, ধর্ষণ মামলার বাদীকে এই লুটপাটের মামলায় আসামি না করার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা শুনেননি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সঠিক তদন্ত ছাড়া কাউকেই গ্রেপ্তার করা হবে না।

অন্যদিকে মামলার বাদী মো. উমায়ের তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বলছেন, মাদ্রাসার জমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যেই তাঁর বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার রাতে রূপ নেওয়া উত্তেজনায় মাদ্রাসায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

তবে লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলায় উল্টো ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারকে আসামি করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনেরা। সেই সঙ্গে ঘটনার এত দিন পার হলেও মূল আসামি আব্দুল বারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয়দের মাঝেও অসন্তোষ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর (বুধবার) ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পেলে উত্তেজিত এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি ঘেরাও করেন। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁরাও তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং রাত পৌনে নয়টার দিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এর পর পরই ক্ষুব্ধ জনতা দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ঘটনা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং তার ওপর বাদীকে আসামি করে পাল্টা মামলার মতো বিষয়গুলো পুরো এলাকাকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়-তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের কত দ্রুত আইনের আওতায় আনে।

এসএইচ