একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে পথচলা শুরু করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আদর্শিক বিচ্যুতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ। দলটির বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আদর্শচ্যুতির গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খবির হোসেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের নেপথ্য কারণগুলো তুলে ধরে খবির হোসেন জানান, দলটির সভাপতি নুরুল হক নূরের কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তাঁকে চরমভাবে হতাশ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার অজুহাতে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। দলের সভাপতি প্রায় এক শ জন নেতার প্রত্যেকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে মোট প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। তবে সংগৃহীত এই বিশাল অঙ্কের তহবিল কীভাবে বা কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব বা স্বচ্ছতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দিতে পারেনি।
এ ছাড়া দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক পরিবর্তন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নেতা। তিনি বলেন, নীতিগতভাবে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। খবির হোসেনের মতে, এই ধরনের নমনীয়তা ও সমঝোতার রাজনীতি গণঅধিকার পরিষদের জন্মলগ্নকার আদর্শ ও জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। অনৈতিকতা ও দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করা তাঁর নিজস্ব নৈতিক চেতনার পরিপন্থী হওয়ায় তিনি দল থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তিনি গণঅধিকার পরিষদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি নিচ্ছেন। এখন থেকে দলটির রাজনৈতিক বা কোনো ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। উল্লেখ্য, দলটির সভাপতি নুরুল হক নূর বর্তমানে সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে শরীয়তপুর জেলা সম্পাদকের এমন আকস্মিক পদত্যাগ এবং আর্থিক অস্বচ্ছতার গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গণঅধিকার পরিষদের মুখ্যপাত্র আবু হানিফ গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা নেই। কেন্দ্রীয় দপ্তরে এখনও কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র এসে পৌঁছায়নি। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এসএইচ