৯ কোটি টাকার ই-টেন্ডার হ্যাক, মাদারীপুর হাসপাতালে তীব্র ওষুধ সংকট

  • মাদারীপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ ক্রয়ের ই-টেন্ডার সাইট পরপর দুই দফায় হ্যাক করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল জালিয়াতির এই ঘটনার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে টেন্ডারে অংশ নিতে পারছে না।

অন্যদিকে যথাসময়ে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ না পাওয়ায় হাসপাতালের স্টক ফুরিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের লক্ষ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই দুর্বৃত্তরা ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া হ্যাক করে। বাধ্য হয়ে ওই টেন্ডার বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারও একই কায়দায় সাইট হ্যাক করা হলে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। বিগত অর্থবছরের সংগৃহীত মালামাল ও ওষুধের মজুত গত জুনে শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন ফকির জানান, গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে তিনি অনলাইনে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলেও সাইট ওপেন করতে গিয়ে ‘ক্যানসেলড’ লেখা দেখতে পান। প্রথম ও দ্বিতীয়—উভয় দফাতেই একই নিয়মে সাইট হ্যাক হওয়ার পেছনে শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে দাবি করে তিনি এর সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, মাদারীপুর সদর হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না। বারবার একই পদ্ধতিতে ডিজিটাল টেন্ডার হ্যাক হওয়ার নেপথ্যে কার বা কাদের স্বার্থ জড়িত, তা দ্রুত খতিয়ে বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অখিল সরকার জানান, পরপর দুই দফায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারিগরি জটিলতা ও সাইট হ্যাক হওয়ার কারণে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বিলম্বিত হচ্ছে। এই অবস্থার দ্রুত অবসান না হলে হাসপাতালে আগত রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না, যা জনদুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মো. খলিলুজ্জামান দাবি করেছেন বিষয়টি মূলত কারিগরি ত্রুটিজনিত। মূল সিভিল সার্জন শরীফুল আবেদীন কমল ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে থাকায় তিনি কর্মস্থলে ফেরার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।

এসএইচ