কৃষিমন্ত্রীর কাছে আমচাষিদের ১১ দফা দাবি

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী অঞ্চল চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর আমচাষিরা প্রতি বছর আড়তদারদের কাছে অতিরিক্ত আম দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন জেলার আম উৎপাদকরা বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেছেন আম উদ্যোক্তা ও চাষিরা। এই পরিস্থিতির প্রতিকার ও আমশিল্পের সার্বিক উন্নয়নে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে ১১ দফা দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন আম উদ্যোক্তা আহসান হাবিব।

কৃষিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনে আহসান হাবিব উল্লেখ করেন, কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জেই বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। কিন্তু আড়তদারদের কাছে অতিরিক্ত আম দিতে বাধ্য হওয়ায় এই এক জেলার আমচাষিরাই প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় আড়তদারদের দিতে হয় আরও প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আম।

আবেদনে বলা হয়, প্রচলিত হিসাবে ৪০ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ আম বিক্রিতে চাষিদের আপত্তি নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আড়তদাররা প্রতি মণের বিপরীতে ৫৪ থেকে ৫৭ কেজি পর্যন্ত আম আদায় করে থাকেন। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত মোট আমের প্রায় এক-চতুর্থাংশই চলে যায় অতিরিক্ত হিসেবে। এতে চাষিরা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও সাধারণ ভোক্তারা এর কোনো সুফল পান না।

আমের ন্যায্য মূল্য ও সঠিক ওজন নির্ধারণে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে আবেদনে বলা হয়, গত বছর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে কেজিতে আম বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে কেনাবেচায় স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন।

আবেদনে আমশিল্পের প্রসারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট রাজারবাগানে ১০০ বিঘা জমিতে আম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, শিবগঞ্জে আম চত্বর নির্মাণ এবং চা ও তুলা খাতের মতো আমের জন্যও আলাদা বোর্ড বা অধিদপ্তর গঠন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্তত ৫০ জন আমচাষিকে মিনি কোল্ড স্টোর সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎচালিত ১০০টি সেচযন্ত্র দেওয়া এবং গতানুগতিক প্রকল্পের বদলে কৃষকদের বাস্তব চাহিদানুযায়ী কার্যকর প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

আমের অপচয় রোধ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে জুস, ড্রাই ম্যাঙ্গো, আমসত্ত্ব ও আমের গুঁড়া তৈরির কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি আম রপ্তানি সহজ করতে রাজশাহী থেকে কার্গো বিমান চালু, পরিবেশবান্ধব প্যাকিং ও সর্টিং প্রতিষ্ঠান, আধুনিক প্যাকিং হাউস এবং ভ্যাপার ট্রিটমেন্ট সুবিধা নির্মাণের দাবি তোলা হয়েছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪০ জন ক্ষিরসাপাত আমচাষি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে নিবন্ধিত আমচাষি হিসেবে কাজ করছেন। ক্ষিরসাপাত আমের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও জিআই পণ্য হিসেবে পরিচিতি বাড়াতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ন্যায্য বাজারব্যবস্থা, আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা গেলে আমচাষিদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এসএইচ