পঞ্চগড়ে অবৈধ সার জব্দ: ডিলারশিপ বাতিল, গোপনে আপসের গুঞ্জন

  • পঞ্চগড় প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবৈধভাবে পরিবহনের সময় ১২০ বস্তা সরকারি ড্যাপ সার জব্দের ঘটনায় অভিযুক্ত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নুরনবী এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ বাতিলের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর বোদা উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ডিলারশিপ বাতিলে উচ্চমহলে সুপারিশ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তবে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ দিনেও সরকারি সার নীতিমালার বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কীভাবে সুপারিশ করা হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, সার পাচারের এই গুরুতর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গোপনে আপস করার কারণে চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা ঝুলে গেছে।

সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের জন্য উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা ডেকে কার্যবিবরণী পাস করা বাধ্যতামূলক। এরপর কমিটির সভাপতি ও ইউএনও এবং সদস্য-সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে জেলা কমিটির মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে হয়।

কিন্তু ২৪ দিন পার হলেও বোদা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কোনো সভাই অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে সভার রেজুলেশন ও কৃষি কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষর ছাড়া এককভাবে ডিলারশিপ বাতিলের এ প্রক্রিয়া কতটুকু আইনি ভিত্তি পাবে এবং এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলার পরবর্তীতে আইনি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই দাপ্তরিক প্রক্রিয়া নিয়ে বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন-নবী জানান, সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ইউএনও এবং ঘটনার পর উপজেলা কমিটির আর কোনো মিটিং হয়নি। এককভাবে সুপারিশের কোনো অনুলিপি তিনি পাননি বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের কাছে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বা সুপারিশের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সঠিক তথ্য নেওয়ার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা কমিটির সদস্য-সচিব আব্দুল মতিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বোদা পৌরসভা এলাকায় একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে মেসার্স নুরনবী এন্টারপ্রাইজ ও তানিম এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ডিলারশিপ সচল রাখা হয়েছে।

নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ, গোপনে আপসের গুঞ্জনের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক ধোঁয়াশা নিরসন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

এসএইচ