ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অভিনব প্রতারক চক্রের সন্ধান মিলেছে, যারা নারীদের লোভনীয় প্রলোভনে ফেলে বিত্তবান ও মধ্যবয়সী পুরুষদের সর্বস্বান্ত করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে সংঘবদ্ধ এই হানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, চক্রটির মূল কৌশল ছিল সুকৌশলে বিত্তবান ও বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করা। চক্রের নারী সদস্যরা ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মধ্যবয়সী ব্যবসায়ী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

পরবর্তীতে নানা বাহানায় তাদের পূর্বনির্ধারিত কোনো বাসা কিংবা হোটেল কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। ফাঁদে পা দেওয়ার পর সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা চক্রের পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক জিম্মি করতেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।

গোয়েন্দা প্রধান আরও জানান, টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের একান্ত মুহূর্তের বা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখত চক্রটি। পরবর্তীতে সেইসব ডিজিটাল কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা পরিবারকে জানানোর হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

এমনকি একবার অর্থ আদায়ের পরও ব্ল্যাকমেইলের অন্তহীন পালা শেষ হতো না; বারবার বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করত অপরাধীরা। আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ঘন ঘন তাদের আস্তানা ও বাসা পরিবর্তন করতেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তারা ব্যবহার করতেন ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত সিম কার্ড এবং ফেক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট।

ডিএমপির এই শীর্ষ কর্মকর্তা দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, ভার্চুয়াল জগতের সম্পর্ক অন্ধভাবে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসএইচ