ঢাকা: সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঋণের অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে গ্রাহকের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে এই মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে ঋণের পরিমাণ কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসে প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার বেশি হবে না।
সার্কুলারে জানানো হয়েছে, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে এবং যারা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, তারাই কেবল ‘সচল রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠন– যেমন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)– এর প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীর নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার অর্থ জমা দেবে। এই ঋণ তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ (কিস্তি স্থগিতের সময়) সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সমান মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। নিয়মিত সুদ ছাড়া এই ঋণের ওপর অতিরিক্ত কোনো ফি, চার্জ বা মুনাফা আরোপ করা যাবে না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এএইচ/পিএস