মোটর বীমা আবশ্যিক থাকলেও তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি: এনবিআর চেয়ারম্যান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: মোটর বীমা আবশ্যিক থাকলেও তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর অব্যবস্থাপনাকে ইঙ্গিত করে বলেন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রফেশনালিজম গড়ে ওঠেনি। প্রফেশনালিজম না থাকার কারণে করসংক্রান্ত প্রফেশনাল ব্যবস্থাও তৈরি হয়নি।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

[268325]

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পুরো বীমা খাত নিয়েই মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এখনো কোনো বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য আবেদন কমবে না, অথচ ব্যবসা নেই—এমন আলোচনা চলে।

তিনি বলেন, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আছে, কিন্তু কোথাও অ্যাকচুয়ারি নেই। পৃথিবীর কোথাও এটা নেই। বাংলাদেশে অ্যাকচুয়ারি পড়াশোনাও নেই। বর্তমানে মাত্র দুইজন অ্যাকচুয়ারি আছেন। একজনের বয়স ৮৮ বছরের বেশি, আরেকজন তরুণ, আমার মেয়ে। এ অবস্থায় শৃঙ্খলা কীভাবে আসবে?

তিনি আরও বলেন, গভর্ন্যান্স ইমপ্রুভ না হলে এবং করদাতাদের আস্থা না এলে আবার সমালোচনা হবে। আমাদের যেন জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ না দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা (রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট) না দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমি এমনও দেখেছি, কর্মীরা অবসরে গেলেও তাদের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট দেওয়া হয় না। এত মিসম্যানেজমেন্ট তৈরি হয়েছে। শৃঙ্খলা আনতে হবে।

আব্দুর রহমান খান বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না, বরং জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আরও বাড়বে।

আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

এসআই