এক উপজেলায় ৫২ শিক্ষকের মধ্যে মুসলমান মাত্র ৩ জন, জানা গেল কারণ

  • দিরাই শাল্লা প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি ফলাফলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় মোট জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সদ্য প্রকাশিত ৫২ জন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের তালিকার সিংহভাগই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর করা এই নিয়োগপত্র প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫২ জনের মধ্যে ৪৯ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং মুসলিম প্রার্থী হিসেবে মাত্র তিনজন স্থান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন মো. সাখাওয়াত হোসেন, মো. সাজ্জাদুর রহমান ও আইদুল মিয়া। ডাকঘরভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এই শিক্ষকদের বড় একটি অংশ হবিবপুর ও বাহাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

আদমশুমারির পরিসংখ্যান বলছে, শাল্লা উপজেলায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পঞ্চান্ন শতাংশ এবং হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় চুয়াল্লিশ শতাংশ। তবে জনসংখ্যার এই সমীকরণ সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগে এই ব্যবধান কেন হলো, তার পেছনে স্থানীয় সামাজিক ও শিক্ষাগত বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছেন এলাকাবাসী। 

তাদের ভাষ্যমতে, হাওড় অধ্যুষিত এই জনপদের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রধানত কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষার প্রতি প্রয়োজনীয় আগ্রহ বা সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের মতে, পড়াশোনার প্রতি তুলনামূলক বেশি মনোযোগী হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় সাফল্যের পাল্লা ভারী হয়েছে হিন্দু প্রার্থীদের দিকে।

শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাত্তার মিয়া জানান, একসময় এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকায় মাধ্যমিকের পরই ঝরে পড়ত শিক্ষার্থীরা। নিজের উদ্যোগে এলাকায় কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের সঙ্গে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক পড়াশোনার পরিবেশে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে গ্রামীণ জনপদের একটি বড় অংশ।

এদিকে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস জানান, লিখিত পরীক্ষা জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলেও এর বাইরের ভাইভাসহ সম্পূর্ণ ফল প্রকাশ ও প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। 

ফলে এখানে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন কোনো সুযোগ বা অনিয়মের অবকাশ নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে সচেতনতা ও পড়াশোনার ঘাটতি দূর না হলে পিছিয়ে পড়া এই জনপদের চিত্র রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ