ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম খাতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় রয়েছে ১৫টি প্রতিষ্ঠান, দুইজন ব্যক্তি এবং ১৪টি জাহাজ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা জাহাজগুলো ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনে যুক্ত ছিল।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের দাবি, এসব তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে গোপনীয় ও বিভ্রান্তিকর শিপিং কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে বৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটেছে এবং সমুদ্রপথে চলাচলরত অন্যান্য জাহাজের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব ধরনের সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি মার্কিন সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের আর্থিক কিংবা বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা আসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর। ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা আপাতত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান, তবে ভবিষ্যতে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এসব দাবিকে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
এম