ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫৭.৬১ ডলারে দাঁড়ায়। লেনদেন চলাকালে এটি ৪ মে’র পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ২.৫ শতাংশ।
অন্যদিকে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ২.৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৬১.৯০ ডলারে বন্ধ হয়েছে।
মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মিয়ার বলেন, শক্তিশালী ডলার এবং বিশ্বব্যাপী বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও বন্ডের মুনাফার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে গেছে। একই সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বেড়েছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৭.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৭.০৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ৩.৬ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম ১.৫ শতাংশ কমেছে।
পিএস