পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন লেগে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে আগুন লেগে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের নার্সারিতে এ আগুন লাগে। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় নার্সারিতে ১৫ নবজাতক ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ প্রশাসন জানায়, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে বলা হয়, উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং উদ্ধার অভিযানে ছয়টি ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং শিশুদের তাৎক্ষণিকভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।” এতে আরও বলা হয়, ১৪টি শিশু “সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়”।

ঘটনাটি তদন্ত করতে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জেনারেলের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

পিমসের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল ডনকে জানান, ওয়ার্ডটিতে ১৫টি শিশু ছিল। ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকাল ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং এটি শর্ট সার্কিটের কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

“অন্তত একটি শিশুকে একজন চিকিৎসক রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন,” তিনি বলেন।

মালিক ইসরার, যার ভাগনি গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন, ডনকে বলেন, চলমান মেরামত ও সংস্কারকাজ চলছিল এমন একটি ভবনে নার্সারি রাখা ছিল—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

“আগুন লাগার পর তারা রোগীদের ভবন খালি করতে বলে। যেসব নারী মাত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, তাদের দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে হয়,” তিনি বলেন।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পিমস ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল। এটি ফেডারেল রাজধানীর দুটি প্রাচীনতম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের একটি এবং এর অধীনে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পাকিস্তানে বড় ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে দুর্বল নিরাপত্তা আইন ও ভবন নির্মাণবিধি এবং এসব বিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ না করার বিষয়গুলোকে প্রায়ই দায়ী করা হয়।

পিএস