বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ৪৫তম বাংলাদেশ 

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ছবি: প্রতীকী

বিশ্বজুড়ে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণ বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বৈশ্বিক ঋণ বেড়েছে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঋণের সুদ মেটাতে স্কুল, হাসপাতাল ও পেনশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে সরকারগুলো।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসন সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট ঘাটতির প্রতিবাদে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে লাখো মানুষ রাজপথে নেমেছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশটিতে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বছরের পর বছর বিপুল ঋণ নেওয়ায় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সরকারি ঋণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশের সমান। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের সরকারি ঋণ প্রায় ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের ঋণ প্রায় ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, এবং বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১৯৯ শতাংশ— যা সর্বোচ্চ।

তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের ঋণ প্রায় ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১০২ শতাংশ) এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ফ্রান্সের ঋণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। এছাড়া ইতালি ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১৩৮ শতাংশ), জার্মানি ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ৬৫ শতাংশ), ভারত ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ৮৩ শতাংশ), কানাডা ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১১৬ শতাংশ) এবং ব্রাজিল ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ৯৭ শতাংশ) ঋণ নিয়ে শীর্ষ দশের বাকি স্থানগুলোতে রয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক ঋণের এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বর্তমানে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা জিডিপির ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত দেড় দশকে দেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এখনো তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে আইএমএফ।

সরকার সাধারণত ব্যাংকে যাওয়ার পরিবর্তে বন্ড বিক্রি করে ঋণ গ্রহণ করে। বন্ডের ‘ইল্ড’ বা মুনাফার হার দিয়ে বোঝা যায় বিনিয়োগকারীরা ঋণ দিয়ে কতটা আয় করছেন এবং ওই দেশ ঋণ সামাল দিতে পারবে কি না। ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশের বন্ডের সুদের হার বাড়ায় নতুন ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪৪ হাজার ডলার। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে শুধু সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধেই ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হয়েছে, যা বৈশ্বিক সামরিক, এআই বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি।

সুদের হার বাড়লে বাড়ি বা গাড়ির ঋণের সুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় বাড়ে। অন্যদিকে সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও সামাজিক সুরক্ষার বাজেট সংকুচিত হয়। সবমিলিয়ে বৈশ্বিক ঋণের এই বেসামাল পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতি উভয়কেই এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এসএইচ