যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। দুই কক্ষবিশিষ্ট কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা করছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এরইমধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।

এদিকে ভোটের আগে প্রকাশিত একাধিক জরিপে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রার্থীদের সমর্থনের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মদক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার বাড়তি উৎসাহ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছে বলে জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসন এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের ভোটারদেরই উদ্বেগ থাকলেও অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে বলে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।

গত রোববার প্রকাশিত এনবিসির এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তুষ্ট। আর নিজেদের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫১ শতাংশ।

এছাড়া গত অক্টোবরে পরিচালিত অন্যান্য জরিপেও দুই দলের ভোটারদের আর্থিক অবস্থা এবং তাদের কাছে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তার চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে অর্থনীতিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও অপরাধের মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিউ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৮৪ শতাংশ মনে করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পছন্দ করেন এমন ভোটারদের ৮২ শতাংশের কাছে এটি ছিল প্রধান ইস্যু। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৮৮ শতাংশ।

তবে অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই দলের ভোটারদের মতামতে পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট পার্টির সমর্থকদের প্রায় ৮৫ শতাংশ গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ৬৯ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন ৮২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ৫৩ শতাংশ।

অভিবাসন নিয়ে রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্বেগ বেশি। তাদের ৭২ শতাংশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ হার ৫৩ শতাংশ। সহিংস অপরাধও রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে রিপাবলিকানদের ৬৪ শতাংশের উদ্বেগ রয়েছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ হার ৩৭ শতাংশ।

স্বাধীন অলাভজনক সংস্থা কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন (কেএফএফ) গত ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর একটি জরিপ পরিচালনা করে। এতে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা রাখেন ৪২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রাখেন ২২ শতাংশ।

জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা রেখেছেন ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা। রিপাবলিকানদের পক্ষে এ হার ২৫ শতাংশ।

এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে দুই দলের ভোটারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট এবং ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক রয়েছে এমন উত্তরদাতাদের ৯১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৩৯ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের নীতি অর্থনীতির উন্নতি করেছে। ৩৫ শতাংশের মতে, এসব নীতি পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। আর ২৫ শতাংশ মনে করেন, অর্থনীতিতে এসব নীতির তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

এম