ঢাকা: জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার ৪৮ কর্মকর্তার ফিটলিস্টের ভাইভা নেওয়া হয়েছে। তারা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। পূর্বে কোন নোটিশ না দিয়ে নজিরবিহীনভাবে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়েছে এই ভাইভা। ফলে এই ফিটলিস্ট তৈরি ও ভাইভা গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ফিটলিস্টের ভাইভার জন্য আগে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ দেয় হয়। এই নোটিশ প্রকাশ করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও। কিন্তু এবার নজিরবিহীনভাবে প্রশাসন ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের ৪৮ কর্মকর্তাকে ফোন করে ডেকে নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের অক্টোবরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ভাইভা নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেই ফিটলিস্টে মার্ক কম থাকায় সরকারের একটি উচ্চ পর্যায় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠিয়ে তাদের ভাইভা নিতে বলা হয়। এই তালিকায় আওয়ামী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, বঙ্গবভন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আওয়ামী শাসনামলে ঢাকার আ্যাসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তা রয়েছে। ফলে সেটি নোটিশ আকারে না দিয়ে ফোন করে কর্মকর্তাদের ভাইভায় ডাকা হয়। আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের ডিসি বানাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এমন কর্মকান্ডে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ডিসি ফিটলিস্টের ভাইভা সবসময় জনপ্রশাসনের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। এর পেছনে অসৎ কোন উদ্যেশ্যে না থাকলে এমনটি হওয়ার কথা না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন এসব কর্মকর্তারা।
ডিসি পদে পদায়ন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মচারীগণের মধ্য হইতে উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির এক বছর পর জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট প্রণয়ন করা হইবে। ফিটলিস্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা সচিব, জেলা পরিষদ বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় পদে মোট ন্যূনতম ২ (দুই) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে। পূর্ববর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের রেকর্ড এবং সমগ্র চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হইতে হইবে। প্রকল্প ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে জানা এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকিতে হইবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হইতে হইবে।’
পিএস