জানমালের নিরাপত্তা ও মালিকানা রক্ষায়

নাসিক প্রশাসকের কাছে শেয়ারহোল্ডারদের লিখিত অভিযোগ 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের পর এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিল’-এর শেয়ারহোল্ডাররা। জানমালের নিরাপত্তা ও মিলের মালিকানা রক্ষার দাবিতে বৃহস্পতিবার নগরভবনে গিয়ে নাসিক প্রশাসকের হাতে সরাসরি এই অভিযোগপত্র তুলে দেওয়া হয়। নাসিক প্রশাসক শেয়ারহোল্ডারদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে শেয়ারহোল্ডাররা জানান, ২০০১ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিলটি ৫১০ জন স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সরকারি গেজেট ও চুক্তি অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডার ব্যতীত অন্য কারও মালিক হওয়ার সুযোগ নেই এবং একজন সর্বোচ্চ ১০টি শেয়ারের মালিক হতে পারবেন। তবে মিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন প্রধান ও তাঁর সহযোগীরা ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত শেয়ার বিতরণ, এজিএম বন্ধ রাখা এবং লভ্যাংশ আত্মসাৎ করে মিলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নিজের অপকর্ম ঢাকতে সামসুদ্দিন প্রধান স্থানীয় সাবেক এমপি নাসিম ওসমান ও শামীম ওসমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর যোগসাজশে ‘নীট কনসার্ন গ্রুপ’-এর মাধ্যমে মিলের মালিকানা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এই অবৈধ দখলের প্রতিবাদ করায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর দীর্ঘ দিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। বিগত সরকারের পতনের পর শামীম ওসমান ও তাঁর বাহিনী পালিয়ে গেলেও নীট কনসার্ন গ্রুপ এখনো নিজস্ব বাহিনী দিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের হয়রানি ও জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি বর্তমান সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে তারা ক্ষমতাসীনদের নাম ব্যবহার করছে।

মামলার কথা তুলে ধরে অভিযোগে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে হাইকোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কতিপয় ব্যক্তি আদালতের আদেশ ভুলভাবে উপস্থাপন করে মিলের ভেতর বিভ্রান্তিকর সাইনবোর্ড লাগিয়ে বৈধ বাসিন্দাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করলে শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত অবৈধ পর্ষদ ও নীট কনসার্নের সকল কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা এখনো বলবৎ আছে। এমনকি মিলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিএমসি-ও এই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে আদালতে জানিয়েছে।

শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনো সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার ফলে মিলের অভ্যন্তরে বসবাসরত প্রকৃত অংশীদাররা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই অবস্থায় জানমালের নিরাপত্তা ও মিলের মালিকানা রক্ষায় তারা নাসিক প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সময় শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো: ইয়াকুব, রবি চন্দ্র দাস ও আব্দুল রউফসহ আরও অনেকে। এর আগে গত ২৪ জুন একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন এই শেয়ারহোল্ডাররা। ওউ সময় তিনিও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এসএইচ