জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত টোকিও সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এক সরকারি সফরের ঠিক আগে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপের ঘটনা দেশে কূটনৈতিক অঙ্গনে বিরল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর অনুপস্থিতিতে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও যাবতীয় ব্যবস্থাপনা তদারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে। জরুরি ভিত্তিতে তিনি ঢাকা থেকে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন। অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদেশের পর তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরে এসেছেন এবং সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পেশাদার এই কূটনীতিক ছাত্রজীবন থেকেই জামায়াতের আদর্শে বিশ্বাসী। গত মে মাসে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জাপান সফরে তিনি সরাসরি সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তিনি কেবল বিদায়ী দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে টোকিওতে যাবেন।
পেশাদার কূটনীতিক দাউদ আলী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ তিন দশকের কূটনৈতিক জীবনে তিনি চীন, রুমানিয়া, মলদোভা, উত্তর মেসিডোনিয়া ও বুলগেরিয়ায় বাংলাদেশের মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের মার্চে তাঁকে রুমানিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পান। আগামী ২৬ ডিসেম্বর তাঁর অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফরের ঠিক আগে এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সরকারের এই পদক্ষেপে আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণের চিত্রটি নতুন করে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এসএইচ