প্রধানমন্ত্রী খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন আজ

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন। তিনি আজ সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে করে বাগেরহাটের মোংলায় যাবেন।

এরপর সেখান থেকে সড়কপথে খুলনায় যাবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মোংলায় দুটি এবং খুলনায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।

মোংলার কর্মসূচি শেষ করে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী খুলনায় যাবেন। খুলনা স্টেডিয়ামে নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন করবেন তিনি। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।’

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চার হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মোংলা বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ‘মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) প্রকল্পটির ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।

বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে চীন সরকার এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সফট লোন সহায়তা দিচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, সিআরসিসি ও সিসিইসিসির প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, এই প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন স্থাপনাগুলোর মাধ্যমে বছরে প্রায় তিন লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ (টোয়েন্টি ফিট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার আয়তনের লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটার আয়তনের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং চার হাজার ২৬০ বর্গমিটার আয়তনের বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে।

মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার এবং জাতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নে মোংলা বন্দর আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এম