জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা, যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে দলটি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২৬টি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।

রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনে বিশেষ গুরুত্ব

ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। জুলাই বিপ্লবের স্বপ্নকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ এবং এর পুনরুত্থান রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে আপসহীন থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান

বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে জামায়াত ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (SME) বিকাশে জোর দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে বিনিয়োগবান্ধব ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দলটি। পাশাপাশি আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ইশতেহারে বলা হয়, বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব পর্যায়ক্রমে ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও বৈষম্য নিরসন

জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু ভেদাভেদ ভুলে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কৃষি ও শিল্পায়ন

কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ ‘কল্যাণরাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এসবিআর