সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি সাক্ষ্য দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল নিয়ন্ত্রক ছিল ডিজিএফআই। তারা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে নিজেদের সেলে রাখত এবং জিজ্ঞাসাবাদ করত। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিও ছিলেন। তারেক রহমানকেও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছিল এবং অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে ডিজিএফআই’র সেলে রাখার প্রক্রিয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে তারা মনে করতেন, যে কোনো ব্যক্তিকে যে কোনোভাবে ব্যবহার করা যায়।
তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। ২০০৩ সালে র্যাব গঠনের আগে এই অপারেশনে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ১২ জন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী ৬০ জন নিহত হয়েছেন। পরে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা তিনি ‘লাইসেন্স টু কিল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। আজ প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দি দিয়েছেন।
এসএইচ