ঢাকা: শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১৩ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। তবে নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিসহ কয়েকটি দলের হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থী হেরে গেছেন। তাদের হেরে যাওয়াটা রাজনৈতিক মঞ্চে আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মামুনুল হক, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, আমিনুল হক, সারজিস আলম, কৃষ্ণ নন্দী, নজরুল ইসলাম মঞ্জু,মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তাসনিম জারা।
মামুনুল হক: ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে হেরে গেছেন। এই আসনে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম: বরিশাল-৫ আসন থেকে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে হেরে যান ফয়জুল করীম। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির। এই আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনেও মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম নির্বাচন করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খানের কাছে পরাজিত হয়েছে। নির্বাচনে আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। আর মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ: কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
আমিনুল হক: ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে হেরে গেছেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।
সারজিস আলম: পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট।
কৃষ্ণ নন্দী: খুলনা-১ আসনে (দাকোপ ও বটিয়াঘাটা) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খানের কাছে হেরে গেছেন। আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু: খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট।
মিয়া গোলাম পরওয়ার: খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬। অন্যদিকে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তাতে তাঁর পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭টি।
তাসনিম জারা: ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট।
পিএস