নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল ছাড়লেন ঢাকা কলেজ শিবির নেতা

  • ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: কলেজ প্রশাসনের বেধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হল ছাড়ছেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. তাওহীদুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় নিজের ফেইসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

পোস্টে তিনি লিখেন, আমি মো. তাওহীদুল ইসলাম, ঢাকা কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত (২০২৪ সেশনের) মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি, যা গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভাইভার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

আমি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে  কলেজের সাউথ হলের ১১৪ নং রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান করছি। 

তিনি আরো লিখেন, সাধারণত আমাদের হলে আসন বরাদ্দ এবং বাতিলের হিসাবটি জুলাই-জুন অর্থবছরের হিসেবে হয়ে থাকে। তবে জুলাই পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আমাদেরকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল অক্টোবর মাসে। সেই হিসেবে আমাদের হলের আসন বাতিল হওয়া বা হল ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল আগামী অক্টোবর মাসে। কিন্তু কলেজ প্রশাসন গত ২৩ এপ্রিল একটি সংক্ষিপ্ত নোটিশের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ (অনার্স) সেশনসহ তার পূর্ববর্তী সকল সেশনের শিক্ষার্থীদের আগামী এক সপ্তাহ অর্থাৎ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ প্রদান করেছে।

এটি কলেজ প্রশাসনের অদূরদর্শিতার একটি উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি লিখেন, মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে ঢাকা শহরে সকল বাস্তবতা সামলে নতুন আবাসন খুঁজে নেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় অসম্ভব। যেখানে আসন বরাদ্দ এক বছরের জন্য এবং তা অক্টোবর মাসে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে অন্তত মাস্টার্সের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সময় দেওয়া যৌক্তিক ছিল বলে আমি মনে করি। তবুও, জুনিয়রদের আবাসন সমস্যার কথা বিবেচনা করে এবং কলেজ প্রশাসনের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আজ আমি আমার আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আবাসন সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে সবচেয়ে জুনিয়র ব্যাচ হলো ২০২৪-২৫ সেশন এবং খুব শীঘ্রই ২০২৫-২৬ সেশনও ক্যাম্পাসে পদার্পণ করবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, এখন পর্যন্ত ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হল বরাদ্দ পায়নি। তাদের এই আবাসন সংকটের পেছনে যেমন আসনের সীমাবদ্ধতা দায়ী, তেমনি কলেজ প্রশাসনের উদাসীনতাও সমানভাবে দায়ী। কারণ, হলগুলোতে এখনো অনেক পুরাতন সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কতিপয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের প্রভাবে শিক্ষা জীবন শেষ হওয়া অনেক শিক্ষার্থীকে হলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংকট তৈরি করে।

এর আগে, ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

পিএস