এক শতাব্দীর গৌরবময় পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে শতবর্ষ উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের হলরুমে শতবর্ষ উদযাপন বাস্তবায়ন এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম এবং গভর্নিং কমিটির সভাপতি তানভীর রশিদ। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষানুরাগী, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা এই মিলনমেলায় অংশ নেন।
সভায় শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণমূলক ও বর্ণাঢ্য করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণ, অতিথি আমন্ত্রণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মরণিকা প্রকাশ, প্রচার-প্রচারণা, অর্থায়ন এবং স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনার মতো সার্বিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই প্রস্তুতি সভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ। এ লক্ষ্যে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ডা. মোঃ শাহাদাতকে আহ্বায়ক এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন আহমেদকে সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়। নবগঠিত এই কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে শতবর্ষ উদযাপনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এক শতাব্দীর পথচলায় রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে অবদান রেখে প্রতিষ্ঠানের সুনাম সমুন্নত রেখেছেন। শতবর্ষ উদযাপন সেই গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে। একই সাথে এটি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর ও স্থায়ী সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘ আলোচনা ও স্মৃতিচারণ শেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। নৈশভোজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিরা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করেন। সবশেষে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনকে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা-উৎসবে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এসএইচ