যে ৩ ধরনের মানুষকে বিশ্বনবী (সা.) অপছন্দ করতেন

  • ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৬:১১ এএম

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন কিছু স্বভাব ও চরিত্রের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন, যা মানুষের অহংকার, আত্মপ্রশংসা ও অন্যকে হেয় করার প্রবণতা সৃষ্টি করে। বিশেষত অনর্থক বেশি কথা বলা, মানুষকে ছোট করা এবং কথার মাধ্যমে নিজের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন মুমিনের সৌন্দর্য হলো— সংযত ভাষা, নম্র আচরণ এবং বিনয়পূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلَاقًا، وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَيَّ وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الثَّرْثَارُونَ وَالْمُتَشَدِّقُونَ وَالْمُتَفَيْهِقُونَ

‘তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে তারা, যাদের চরিত্র উত্তম। আর তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় এবং কেয়ামতের দিন আমার থেকে সবচেয়ে দূরে থাকবে তারা, যারা অনর্থক বেশি কথা বলে, মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এবং কথার মাধ্যমে নিজের পাণ্ডিত্য ও অহংকার প্রকাশ করে।’ (তিরমিজি ২০১৮)

হাদিসে বর্ণিত তিনটি নিন্দনীয় স্বভাব

১. অনর্থক বেশি কথা বলা

ইসলাম মানুষকে সংযত ভাষায় কথা বলতে শিক্ষা দেয়। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত কথা অনেক সময় গুনাহ, গীবত, মিথ্যা ও ফিতনার কারণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ

‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে উপস্থিত প্রহরী তা লিপিবদ্ধ করে।’ (সুরা ক্বাফ: আয়াত ১৮)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا

‘মানুষের সাথে উত্তম কথা বলো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৮৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

২. মানুষকে ছোট ও তুচ্ছ করা

অহংকার অন্যকে হেয় করতে শেখায়। অথচ ইসলামে কোনো মুসলমানকে অপমান করা গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ

‘হে মুমিনগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ

‘কোনো মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করে।’ (মুসলিম ২৫৬৪)

৩. কথার মাধ্যমে অহংকার ও পাণ্ডিত্য প্রকাশ করা

কিছু মানুষ জটিল ভাষা, কৃত্রিম ভঙ্গি ও আত্মপ্রশংসার মাধ্যমে নিজেদের বড় প্রমাণ করতে চায়। ইসলাম এটিকে অপছন্দ করে। কারণ প্রকৃত জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী বানায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا

‘পৃথিবীতে অহংকারভরে চলাফেরা করো না। তুমি কখনো জমিন বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড়সম হতে পারবে না।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৩৭)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো অহংকারী ও আত্মগর্বকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা লুকমান: আয়াত ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম ৯১)

একজন মুমিনের আদর্শ চরিত্র কেমন হওয়া উচিত

একজন মুমিনের ভাষা হবে কোমল, আচরণ হবে বিনয়পূর্ণ এবং অন্তর হবে অহংকারমুক্ত। সে মানুষের সম্মান রক্ষা করবে, কম কথা বলবে এবং প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর কথা বলার চেষ্টা করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে বলেন—

وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ

‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল-কলম: আয়াত ৪)

মানুষের কথাবার্তা ও আচরণ তার ঈমান ও চরিত্রের প্রতিফলন। অনর্থক বেশি কথা বলা, মানুষকে হেয় করা এবং জ্ঞানের অহংকার প্রদর্শন করা এমন স্বভাব, যা আল্লাহর রাসুল (সা.) অত্যন্ত অপছন্দ করতেন। একজন সচেতন মুসলিমের উচিত নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখা, বিনয়ী হওয়া এবং অন্যের সম্মান রক্ষা করা।

এম