রাজনীতিতে নির্বাচনী হাওয়া

ঘর গোছানোর পাশাপাশি শরিক বাড়ানোর চিন্তা আ.লীগের

  • বিশেষ প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১, ০৯:৪৭ পিএম

ঢাকা: রাজনীতির ময়দানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। যে যার মতো কোমর বেঁধে নেমে পরার অপেক্ষায় সাজাচ্ছে পরিকল্পনা।সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের এখনো বাকি প্রায় আড়াই বছর। ২০২৩ সালের শেষের দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।

ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ সবাই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গুছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোও গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়া শেষ করেছে।

আরও পড়ুন: বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ৪ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো ভোটগ্রহণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইসি। আর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বছরই কেনা হচ্ছে আরো প্রায় ৩৫ হাজার ইভিএম মেশিন। সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, আবারো কারসাজির নির্বাচনের শঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে জাতি হিসেবে চরম সংকটের দিকে ধাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না হলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে। তাই বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে তুলতে হবে। নইলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত দাবি আদায় করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন: নেতৃত্বের সংকট বিএনপিতে

এদিকে নির্বাচনের আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের।

তার আগেই ৭৮টি সাংগঠনিক জেলাসহ উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দলটি কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, তৃণমূল সম্মেলনের পর পুরোদমে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

সেইসঙ্গে ভোটের হিসাব-নিকাশ মেলানোর জন্য কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে আওয়ামী লীগ। একই চিন্তা রয়েছে কয়েকটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল নিয়েও। এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে মহাজোটে নির্বাচনি জোটের পরিধি বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন: আদর্শিক দ্বন্দ্বে ধুঁকছে রাজনীতি

আগামী নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শীর্ষ নেতা। বর্তমানে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আরো কাছে টানার ভাবনা রয়েছে। ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের আরো উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ থাকবে।

এছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। দ্বন্দ্ব-বিবাদ লেগেই আছে। নানামুখী জটিলতাও তৈরি হয়েছে। এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, নরসিংদী, চট্টগ্রাম মহানগর, কক্সবাজারে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিরাজগঞ্জ, নরসিংদীতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকরা দায়িত্ব পালন করছেন। এই জেলাগুলোতে আগেভাগে সম্মেলন করার প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মেলন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তাছাড়া বছর দেড়েক আগে সম্মেলন হলেও কয়েকটি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো অনুমোদন পায়নি। এ নিয়ে সংশ্নিষ্ট জেলাগুলোতে সাংগঠনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী, সম্মেলন যখনই হোক না কেন-পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের দিন থেকেই কমিটির মেয়াদকালের গণনা শুরু হয়। এ কারণে এবার তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনের পর দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের প্রস্তুতি রয়েছে।

সেই ক্ষেত্রে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব শাখার সম্মেলন হবে, সেসব শাখা কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দ্রুত অনুমোদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাস থেকে ঢাকা বিভাগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমেই রাজবাড়ী জেলার সম্মেলন হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোর সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

এদিকে সরকার পরিবর্তন চাইলে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।তার মতে আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পন্থায় এগোতে হবে বিএনপিকে। যদিও আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে মাঠ ছেড়ে দিতে একেবারেই রাজি নন আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।  

তিনি মনে করেন, বিএনপি রাজনৈতিক মাঠে নয়, নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বসে শুধুমাত্র লিপ সার্ভিসের মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর ভর করে টিকে আছে। আসলে বিএনপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, নেবেও না।  

ওবায়দুল কাদেরের মতে, সরকার দেশকে কখনোই বিএনপি শূন্য করতে চায়নি, এটি আওয়ামী লীগের রাজনীতিও নয়; বরং বিএনপি নীতিবিবর্জিত হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতিকে বৈধতা দিয়েছে। অতীত কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে বিএনপি আজ নিশ্চিহ্ন প্রায়। বিএনপির মিথ্যা-বানোয়াট-ভ্রান্তিমূলক বয়ান বাংলার জনগণ সবসময় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি জানান, আগামী নির্বাচন কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই সাংগঠনিক টিমের সদস্যরাই তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন। আর আগামী নির্বাচনে জোটের শরিক দলের সংখ্যাও বাড়তে পারে।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে দেশের রাজনীতিতে আবার নতুন করে সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোনালীনিউজ/আইএ