দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তার আগেই বহু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন এবং নিশ্চিত রোগী ২ হাজার ৯৭৩ জন।
একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ শিশু এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৭৭২ জন। এ সময়ে নিশ্চিত হামে ৩২ জন এবং সন্দেহজনক হামে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ। করোনার সময়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে নিয়মিত গণটিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত থেকে যায় এবং জনসংখ্যার মধ্যে যে দলগত প্রতিরোধ বা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছিল তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
হাম একটি অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি–কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। একাধিক গবেষণা বলছে, একজন আক্রান্ত শিশু ১৬ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।
বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ ২ বছরের কম বয়সী, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ৯ মাসেরও নিচে। ফলে টিকা নেওয়ার আগেই তারা ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি কিছুটা সুরক্ষা দিলেও তা ধীরে ধীরে কমে যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, টিকাদানের ঘাটতির পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা এবং অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।
রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়ায় এখন ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে। আগে যখন টিকা কভারেজ ৯৮ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, তখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এখন সেই সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কভারেজ বাড়ানো, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পুনরায় চালু করা এবং অপুষ্টি মোকাবিলা না করলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
এসএইচ