গ্যাস নেই লাইনে, এলপিজির দামও নাগালের বাইরে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ফাইল ছবি

রাজধানীর গ্রিনরোডের বাসিন্দা মোকাররম হোসেনের সংসার চলে বেসরকারি চাকরির আয়ে। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার পরিবার। ইদানীং তার দুশ্চিন্তার বড় কারণ-লাইনের গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ আর এলপিজি সিলিন্ডারের বাড়তি দাম। 

মোকাররম বলেন, বাসায় সব সময় গ্যাস থাকে না। ছোট সন্তানদের জন্য হঠাৎ করে রান্না করতে হয়। তাই বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার রাখতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু সেটিও এখন বাড়তি বোঝা। “লাইনের গ্যাসের বিল দিই, আবার সিলিন্ডারও রাখতে হয়। এই মাসে ১৯০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। মধ্যবিত্ত সংসারে এক-দুইশ টাকাও হিসাব করে খরচ করি,” বলেন তিনি।

শুধু মোকাররম নন, রাজধানীর বহু পরিবার একই সংকটে পড়েছে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারই বাসাবাড়িতে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা।

কিন্তু বাজারে সেই দামে মিলছে না এলপিজি। বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খরচ, ডিলার কমিশন ও সরবরাহ সংকটের কারণে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই কম দামে বিক্রি সম্ভব নয়।

লালবাগের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, “১৮০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। সরকার দাম কমিয়েছে শুনি, কিন্তু বাজারে পাই না।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এলপিজির ওপর ভ্যাট কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেয়। স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়।

সরকারের আশা ছিল, এতে ভোক্তাপর্যায়ে সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে। পরে বিইআরসি ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজির এলপিজির দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করে।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি দেশে এসেছে এবং পরিস্থিতি শিগগির স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, গণশুনানি ছাড়া দাম নির্ধারণ করলে ব্যবসায়ীরা তা মানতে চান না। তার মতে, বিইআরসির আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

লাইনের গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু নির্ধারিত দামে এলপিজি না মেলায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। দিনশেষে প্রশ্ন একটাই-দাম কমানোর ঘোষণার সুফল ভোক্তার হাতে পৌঁছাবে কবে?

এসএইচ