ঢাকা : মহানগর নেতাদের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারা বলেছেন, তিনবার ঢাকা মহানগর কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছিল আন্দোলন সফল করার জন্য। কিন্তু একটি কমিটিও রাজপথের আন্দোলনে সফলতা দেখাতে পারেনি।
তবে কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, অন্যবারের আন্দোলন সংগ্রামে কী হয়েছে সে বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের পাশাপাশি দেশবাসী জানে। তবে এবারের আন্দোলনে মহানগর নেতাদের ওপর যতটা নিপীড়ন-নির্যাতন হয়েছে, অতীতে এমনটা দেখা যায়নি। আশার কথা হলো, আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমানউল্লাহ আমানকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও আবদুস সালামকে দক্ষিণের আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা করেছিল বিএনপি।
কিন্তু সর্বশেষ কমিটি সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে সফলতা দেখাতে পারেনি বলে মনে করেন তৃণমূল নেতারা। আন্দোলন সংগ্রামে কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের রাজপথে দেখা যায়নি। এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ দিয়েও নেতাদের রাজপথে নামাতে পারেননি।
[215621]
তৃণমূল নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে নতুন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১১ সালের ১৪ মে ঢাকার সাবেক মেয়র ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে আহ্বায়ক ও আবদুস সালামকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগরের কমিটি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে বিএনপি লাগাতার কর্মসূচি দিলেওআওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর খোকা নেতৃত্বাধীন মহানগর শাখা নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন ওঠে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
এরপর ১২ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর শাখার আহ্বায়কের পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদেক হোসেন খোকা। নির্বাচনের আগে রাজধানীতে বিএনপির আন্দোলন কৌশলে ‘ত্রুটি ছিল’ স্বীকার করে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক ইফতার অনুষ্ঠানে বলেন, ‘শিগগিরই ঢাকা মহানগরে দলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে। কিন্তু ওই কমিটি বিগত কমিটির মতো ব্যর্থ হয় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে।
ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতারা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২১ সালের ২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা দক্ষিণে আহ্বায়ক করা হয়েছে আবদুস সালাম ও উত্তরে আহ্বায়ক হয়েছেন আমানউল্লাহ আমান। দক্ষিণে সদস্য সচিব করা হয়েছে রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হককে উত্তরের। কিন্তু বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা রাজপথে একদিনের জন্য নামেননি।
[215598]
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত দুটি নির্বাচনের আগে বিএনপি যে আন্দোলন করেছে, তাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন।
সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলন সংগ্রামে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা রাজপথে ছিলেন না। বিশেষ করে উত্তরের আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম একদিনের জন্যও রাজপথে নামেননি। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের যেসব তৃণমূল নেতা নেমেছেন তারা অলিগলিতে দুই-চারজনকে লিফলেট বিতরণ করে কেটে পড়েছেন। বারবার নেতৃত্ব পাল্টানো হলেও কোনো নেতৃত্ব রাজপথে সফলতা দেখাতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।
মহানগর বিএনপির কোনো নেতা নন, কর্মসূচির শুরু করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা। তিনি প্রথমে কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ব্যানার নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়ান। এরপর অন্যান্য নেতা মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সেই কর্মসূচিতে উত্তর, দক্ষিণের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।’
দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক সাঈদুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘এবারের আন্দোলনের মতো বিগত আন্দোলনগুলোতে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের ওপর এত নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হয়নি। দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মঞ্জুকে গ্রেপ্তারের পর দায়িত্ব দেওয়া হয় তানভীর আহমেদ রবিনকে। তাকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন লিটন মাহমুদ। উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক কারাগারে।
এ ছাড়া বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের অনেক নেতা কারাগারে রয়েছেন। আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আশা করছি চলমান আন্দোলন সফল হবে এবং বর্তমান মহানগর নেতৃত্ব দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবে।’
এমটিআই