ভারতের দাদাগিরিতে বাংলাদেশ ছাড়াই শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নাম নেই অংশগ্রহণকারী দলের তালিকায়। ২০০৭ সালে এই ফরম্যাটের যাত্রা শুরুর পর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি আসরে খেললেও, ভারত ও শ্রীলংকার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া দশম আসরে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেল।

প্রায় দুই দশকের ইতিহাসে ক্রিকেটের এই বৈশ্বিক আসর এবার যেন ব্যাট-বলের চেয়ে রাজনীতির কূটচালে বেশি আলোচিত। সমালোচকদের মতে, ভারতের প্রভাব ও আঞ্চলিক রাজনীতির বলয়ে পড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হারিয়েছে তার নিরপেক্ষতা।

বাংলাদেশের অনুপস্থিতির পেছনের ঘটনাপ্রবাহ এখন সবারই জানা। ভারতীয় উগ্রবাদীদের চাপে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। বিকল্প হিসেবে নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে সেই অনুরোধ আমলে না নিয়ে উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।

১৬০ কোটি টাকার প্রাইজমানির এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বাদ পড়াকে অনেকেই স্পষ্ট অবিচার হিসেবে দেখছেন। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির বহুল আলোচিত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় পড়ে আইসিসি, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬,১১২ কোটি টাকা। সেই ক্ষতি এড়াতেই পাকিস্তানকে মাঠে নামাতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ক্রিকেট রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন এই সিদ্ধান্ত আইসিসিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে বলেও মত তাদের। বিসিসিআইয়ের প্রভাব থেকে আইসিসিকে বের করে আনতে এমন সাহসী অবস্থানের বিকল্প ছিল না—এমন মন্তব্যও শোনা যাচ্ছে ক্রিকেট অঙ্গনে।

দল হিসেবে না থাকলেও পুরোপুরি অনুপস্থিত নয় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ও গাজী সোহেল। ধারাভাষ্যে থাকবেন পরিচিত কণ্ঠ আতহার আলী খান।

এদিকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের হতাশা কিছুটা লাঘব করতে দেশে শুরু হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। ধূমকেতু, দুর্বার ও দুরন্ত—এই তিন দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে টুর্নামেন্টটি।

২০ দলের অংশগ্রহণে আজ কলম্বোয় পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। প্রথম দিনেই তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড, আর মুম্বাইয়ে দিনের শেষ ম্যাচে খেলবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

চার গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে দলগুলো। প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল যাবে সুপার এইটে। সেখান থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পথ পাড়ি দেবে সেরা দলগুলো। ভারত ও শ্রীলংকার আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৫৫টি ম্যাচ।

পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকায়। তারা ফাইনালে উঠলে ৮ মার্চ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ হবে কলম্বোয়। পাকিস্তান আগেই ছিটকে পড়লে ফাইনাল গড়াবে আহমেদাবাদে।

গ্রুপ ‘এ’-তে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে সুপার এইটে উঠতে পাকিস্তানকে বাকি তিন ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই।

ঘরের মাঠে খেলা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত শিরোপার অন্যতম দাবিদার। টানা দ্বিতীয়বার এবং মোট তিনবার শিরোপা জয়ের সুযোগ তাদের সামনে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানও ফেভারিটের তালিকায় রয়েছে। তবে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার শক্তি কিছুটা কমেছে।

বিশেষ নজর থাকবে ইতালির দিকেও। ফুটবলের জন্য পরিচিত দেশটি এবারই প্রথম কোনো ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

তবে সবকিছুর মাঝেই এক শূন্যতা স্পষ্ট—বাংলাদেশ নেই। টাইগারদের অভাব শুধু বাংলাদেশের সমর্থকরাই নয়, এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও অনুভব করবে প্রবলভাবে।

এম