২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন। ফলে মাঠের সবুজ ঘাসে লিওনেল মেসি কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজদের পাশে এখন আর দেখা যায় না তাকে। তবে শরীরী উপস্থিতিতে না থাকলেও, আলবিসেলেস্তেদের হৃদয়ের কতটা গভীরে রেখেছেন সাবেক তারকা আনহেল ডি মারিয়া, তা আবারও প্রমাণ হলো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মিশন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তা পাঠিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। আর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই সাবেক সতীর্থ ও ভক্তদের আবেগে ভাসালেন ডি মারিয়া।
নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে একটি ছবি পোস্ট করে ডি মারিয়া লিখেছেন: ‘আজ থেকে এক নতুন স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলো। আমি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বলছি, পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত আমরা তোমাদের পাশে আছি। সেই মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে লড়াই করার অনুভূতি আমি জানি, আর এখন একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে সেই লড়াই দেখার অনুভূতিও আমার জানা। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই—তোমাদের আজকের এই স্বপ্ন প্রতিটি আর্জেন্টাইনের স্বপ্ন। তোমাদের সবাইকে অনেক ভালোবাসি। চলো, এবার সবটুকু উজাড় করে দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনি। এগিয়ে চলো, আর্জেন্টিনা!’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর মুহূর্তের মধ্যেই ডি মারিয়ার এই বার্তাটি ভাইরাল হয়ে যায়। কোটি ভক্তের পাশাপাশি বর্তমান দলের খেলোয়াড়দেরও এটি মানসিকভাবে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডি মারিয়া মাঠের ফুটবলকে বিদায় জানালেও আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দলটির সাম্প্রতিক সময়ের প্রায় সবকটি বড় সাফল্যের নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি।
২০২১ কোপা আমেরিকায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে তার করা একমাত্র দর্শনীয় গোলেই দীর্ঘ খরা কাটিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ফিনালিসামায় ইতালির বিপক্ষে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়েও জালের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে পেনাল্টি আদায়ের পাশাপাশি দলের দ্বিতীয় গোলটি করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বজয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এই ‘এল ফিদেও’।
খেলোয়াড় হিসেবে না হলেও, একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে ডি মারিয়ার এই প্রার্থনা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মাঠের লড়াইয়ে কতটা উজ্জীবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এম