• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরানকে গোপন সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্চ ৬, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইরানকে গোপন সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া—এমন দাবি উঠেছে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক মাত্রা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে—যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তেহরানকে সরবরাহ করছে। এর মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থানও রয়েছে। একজন কর্মকর্তা এই সহায়তার ধরনকে “ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ” বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও মস্কো এই সংঘাতকে ‘বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনেই ইরান ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। পেন্টাগন দাবি করেছে, ইরানের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও ইরান বিভিন্ন জায়গায় পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনেও আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে উন্নত সামরিক উপগ্রহ না থাকায় রাশিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি ও উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ দারা মাসিকোট বলেন, ইরান এখন অত্যন্ত নির্ভুলভাবে মার্কিন রাডার ও কমান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা উন্নত গোয়েন্দা সহায়তার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের গবেষক নিকোল গ্রাজুয়েস্কি মনে করেন, আগের সংঘাতের তুলনায় এবারের ইরানি হামলায় কৌশলগত দক্ষতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও চাপে ফেলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তার প্রতিক্রিয়াতেই রাশিয়া এখন ইরানকে সহযোগিতা করছে। ওই যুদ্ধে ইরানও রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে সহায়তা করেছে, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছিল।

তবে এসব সহযোগিতা সত্ত্বেও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেমলিন এখনো ইউক্রেন যুদ্ধকেই প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং এতে মস্কোর অর্থনৈতিক সুবিধাও হতে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউজে-এর মুখপাত্র অ্যানা কেলি রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর এই পরোক্ষ সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

এম

Wordbridge School
Link copied!