• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

এক লাইসেন্সেই চলছে দুই হাসপাতাল! 


চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
এক লাইসেন্সেই চলছে দুই হাসপাতাল! 

ছবি : প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে এক লাইসেন্স দিয়ে চলছে দুটি হাসপাতাল। সিভিল সার্জন অফিস অনিয়ম ধরার পর পৃথক লাইসেন্স করার নির্দেশনা দিলেও এভাবেই অনিয়ম করে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। আলাদা মৌজা ও এলাকা হলেও এক লাইসেন্স দিয়েই ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস এ্যান্ড হাসপাতাল নামের দুটি প্রতিষ্ঠান চলছে। 

জেলা ক্লিনিক মালিক এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম ডলারের মালিকানাধীন এই হাসপাতালের কার্যালয় জেলা শহরের পিটিআই মাস্টারপাড়া। কিন্তু সম্প্রতি একই নামে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সামনে আরেকটি হাসপাতাল স্থাপন করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেটির নাম দেয়া হয়েছে ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস এ্যান্ড হাসপাতাল ইউনিট-২। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে লাইসেন্স বিহীনভাবে ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস ও হাসপাতাল ইউনিট-২ পরিচালনা করছে। এমনকি গত বছরের ০৫ মে সিভিল সার্জনের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে সেখানে ডিউটি ডাক্তার, নার্স ও পরিচ্ছন্নকর্মী পায়নি। দ্বিতীয় শাখায় বিভিন্ন অপারেশনের জটিল অস্ত্রোপাচার হলেও সেখানে থাকে না ডিউটি ডাক্তার।  

তথ্য রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন মৌজায়, ভিন্ন ঠিকানায়, আলদা ভবন, পৃথক হোল্ডিং, এমনকি ভবনের মালিক আলাদা হলেও একই লাইসেন্স দিয়ে চলছে ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস এ্যান্ড হাসপাতাল নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এমনি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির দ্বিতীয় শাখায় থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, আয়কর প্রত্যয়ণপত্র, ট্রেড লাইসেন্সে ঠিকানা রয়েছে পিটিআই মাস্টারপাড়া। অথচ হাসপাতালটি অবস্থিত হাসপাতাল মোড়ে। 

অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিক মালিক এ্যাসোসিয়েশনের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম করে এক লাইসেন্স ব্যবহার করে দুটি হাসপাতাল পরিচালনা করছেন মাইনুল ইসলাম ডলার। তবে এনিয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি স্বাস্থ্য বিভাগকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবাগ্রহীতারা জানান, ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস এ্যান্ড হাসপাতাল সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিতেই এমন অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। এবিষয়ে উপযুক্ত জবাবদিহিতা ও তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। 

সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, একই নামে দুটি হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ম বর্হিভূত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এমনকি দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক লাইসেন্স তৈরি করার জন্য বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে আলাদা লাইসেন্সসহ বাকি কাগজপত্র ঠিক করে নিবে। 

ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস এ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুল ইসলাম ডলার মুঠোফোনে বলেন, এনিয়ে সরাসরি কথা বললে ভালো হয়। বিষয়টি সিভিল সার্জন অফিস অবগত রয়েছে। রাজশাহীতেও এমন এক লাইসেন্সে দুটি প্রতিষ্ঠান চালানো হয়। তবে সিভিল সার্জন অফিস আমাদেরকে জুলাইয়ে নতুন অর্থবছরে পৃথক লাইসেন্স করার জন্য বলেছিল। সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়েই এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!