• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শেবাচিম হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুই নারীর মৃত্যু


বরিশাল প্রতিনিধি   মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
শেবাচিম হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুই নারীর মৃত্যু

ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভুলবশত অ্যানেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করায় পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের চতুর্থ তলার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিকে অপেশাদারিত্ব ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন-পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার শেফালী বেগম (৬০) এবং বরিশাল নগরের কাশিপুর এলাকার হেলেনা বেগম (৪৮)। শেফালী বেগম গালের টিউমারজনিত সমস্যায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যদিকে হেলেনা বেগম গলায় থাইরয়েড সমস্যার কারণে এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রোববার সকালে তাদের দুজনেরই অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।

স্বজনদের অভিযোগ, সকাল প্রায় ৭টার দিকে নাক, কান ও গলা বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার অ্যান্টিবায়োটিক মনে করে ভুলবশত অ্যানেস্থেসিয়া (শরীর অবশ করার) ইনজেকশন পুশ করেন। প্রথমে হেলেনা বেগমের হাতে শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।

এর কিছুক্ষণ পর একই নার্স পাশের ৭ নম্বর বেডে থাকা শেফালী বেগমের শরীরেও একইভাবে অ্যানেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনিও মারা যান।

মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে একই ওয়ার্ডে দুই রোগীর মৃত্যুতে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ঘটনাটিকে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ফল বলে অভিযোগ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ওয়ার্ডের কিছু নার্স বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। তবে পরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হাওলাদার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, সারারাত ডিউটি করার পর সকালে কীভাবে এমন ভুল হয়ে গেল তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। এটি আমার ভুল হয়েছে।

এ বিষয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে থাকা নার্সদের অবহেলার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিষয়টি অপেশাদারিত্ব এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে হঠাৎ এমন ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তারা চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালিপনাকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!