• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

৬ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, তীব্র হচ্ছে লোডশেডিং


জেলা প্রতিনিধি এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:০৪ এএম
৬ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, তীব্র হচ্ছে লোডশেডিং

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। মোট ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নগরী থেকে গ্রামাঞ্চল—সবখানেই বাড়ছে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাত।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নগর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্বে রয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)। তবে উভয় ক্ষেত্রেই সরবরাহ পরিস্থিতি চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট উৎপাদন বন্ধ, একইসঙ্গে রাউজানের দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি কেন্দ্রও অচল। গ্যাসের স্বল্পচাপ ও জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

ফলে নগরীতে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, বাড়ছে দুর্ভোগ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ—কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে প্রায় ১৪৩০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহে ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাবে লোডশেডিং কিছুটা কম দেখানো হলেও বাস্তবে এর মাত্রা আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে শিল্পখাতে। বায়েজিদ বোস্তামী ও কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জেনারেটর ব্যবহার করেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে না।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ‘উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ’ দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি মূলত লোডশেডিং আড়াল করার কৌশল।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ আটটি উপজেলায় পল্লীবিদ্যুতের প্রায় ৭ লাখ গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময়ও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম। বরং সামনে আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম

Link copied!