পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নে এক ফার্মেসি বিক্রেতার গোপন কেবিনে নাবালিকা (১৫) মেয়ের পাঁচ মাসের গর্ভের অবৈধ গর্ভপাত করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা ফার্মেসির ভেতরে অবৈধ নির্জন কক্ষ ও পেছনের গোপন দরজা দেখতে পান, যার মধ্য দিয়ে ওই নারীসহ ৪-৫ জন পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ফার্মেসি বিক্রেতা ডাবলু তার দোকানের ভেতরে গোপন কেবিনে ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া এলাকার এক নাবালিকা মেয়ের (১৫) পাঁচ মাসের গর্ভের ভ্রূণ হত্যার চেষ্টা করছেন।
রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দোকানের শাটার বন্ধ পাওয়া যায় কিন্তু তালাবদ্ধ ছিল না। সাংবাদিকরা রোগী সেজে ডাবলুকে ফোন দিলে তিনি গোপন চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসেন।
একজন পরিচয় গোপন রেখে পেশার মাপে দেখতে বললে তিনি বলেন , “এখন পেশার মাপা যাবে না। অন্য কোনো দোকানে যান।”
এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বললে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করন। এবং ভেতরে কেউ নাই বলে দাবী করেন। এরপর সাংবাদিকরা দোকানের ভেতরে যেতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন। প্রায় ১৯ মিনিট কথা বলার পর তিনি স্বীকার করেন, আছে একটা মেয়ে আছে। মেয়ের মা আছে, একজন নার্স আছে। ওই মেয়েটার পেটে বাচ্চা ছিলো। বিভিন্ন কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। একপর্যায়ে ডাবলু স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সহ সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামকে ফোন দিলে উভয়ে সাংবাদিকদের একটি নির্ধারিত স্থানে যেতে বলেন।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ডাবলু সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দিলে দেখা যায়, গোপন কেবিনটি ফাঁকা। কেবিনের পেছনের গোপন দরজা দিয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। দোকানের পেছনে কচুগাছ ভাঙা অবস্থায় দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ৪-৫ জন সেদিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে এই গোপন কেবিন ও পালানোর পথ ব্যবহার করে অবৈধ গর্ভপাতের মতো কাজ চলে আসছে।
এ বিষয়ে সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে না এসে অন্যত্র আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, “আমরা একসাথে আছি। আমরা যদি ওখানে যাই, সেখানে একটা মারামারি হবে। আপনারা তো আমাদেরই লোক, আপনারা আসেন এখানে আলাপ আলোচনা করি। চা খাই।”
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির বলেন, “তার যদি ড্রাগ লাইসেন্স থাকে, তিনি ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন, তিনি প্র্যাকটিশনও করতে পারবেন না। তার গোপন কেবিন ও পেছনের দরজা কেন আছে—সেটা দেখতে হবে। আপনারা ইউএনও স্যারকেও অবগত করুন।”
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার তথ্য সহ ডাবলুর স্বীকারোক্তি হোয়াটসঅ্যাপ পাঠাতে বলেন। সেইসাথে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাবলুর এই কর্মকাণ্ডে কেউ কেউ আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন বলে সন্দেহ রয়েছে। নাবালিকা মেয়ের পাঁচ মাসের গর্ভের অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আইনগত অপরাধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)













