• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রাজশাহীতে জমে উঠছে আমের মৌসুমের প্রস্তুতি, গুটি আম নামছে আজ


রাজশাহী প্রতিনিধি মে ১৫, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
রাজশাহীতে জমে উঠছে আমের মৌসুমের প্রস্তুতি, গুটি আম নামছে আজ

ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী: রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার থেকে বাগান থেকে গুটি জাতের আম নামানো শুরু করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের প্রথম ধাপ হিসেবে বাজারে উঠতে শুরু করেছে গুটি আম। তবে চাষিদের ভাষ্য, এখনো পুরোপুরি পেকে ওঠেনি অধিকাংশ বাগানের আম। তাই আপাতত সীমিত পরিসরে চলছে সংগ্রহ।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগরীর পাশের পবা উপজেলার কুকন্ডী, বুধপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কিছু বাগানে শ্রমিক দিয়ে আম পাড়ানো হচ্ছে। কোথাও আবার ব্যবসায়ীরা নিজেরাই বাগান থেকে আম সংগ্রহ করছেন। তবে আগের বছরের মতো এবারও মৌসুমের শুরুতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন চাষিরা। অপরিপক্ব আম বাজারে এলে দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাজশাহীর আমের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে শুক্রবার থেকে গুটি আম সংগ্রহ শুরু করেছেন তারা। তবে প্রথম দিন খুব বেশি আম নামানোর পরিকল্পনা নেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এখনো বাগানে সব আম পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। আগামীকাল বানেশ্বর হাটে কিছু আম বিক্রির জন্য নিয়ে যাবো। এরপর ধীরে ধীরে বাজারে আমের সরবরাহ বাড়বে।”

বুধপাড়া এলাকার চাষি রেজাউল করিম বলেন, “গুটি আম নামানো শুরু হলেও প্রকৃত মৌসুম শুরু হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিগগিরই অন্যান্য জাতের আমও পাকতে শুরু করবে।”

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ করতেই প্রতিবছরের মতো এবারও নির্ধারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাবেন, অন্যদিকে কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি বাজারজাতের অনুমতি থাকবে।

পরবর্তী ধাপে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি সংগ্রহ করা যাবে। তবে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ও বাজার—দুই দিক থেকেই ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই আম মৌসুমকে ঘিরে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাগান মালিক, আড়তদার, পরিবহন শ্রমিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বানেশ্বরসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পিএস

Link copied!