• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

স্বামীকে হত্যার পর দেহ টুকরো, ড্রামে লুকিয়ে তিনদিন ঘরে স্ত্রী


শরীয়তপুর প্রতিনিধি মে ১৬, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
স্বামীকে হত্যার পর দেহ টুকরো, ড্রামে লুকিয়ে তিনদিন ঘরে স্ত্রী

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে প্রবাসী স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন খণ্ড উদ্ধার করে। 

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়া সরদারের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ড গোপন করতে পরে মরদেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করা হয়। দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে প্রায় তিন দিন বাসায় রাখা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের মাংসের অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রাখতে যান আসমা আক্তার। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একইদিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে চারটি হাত-পায়ের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এগুলো নিহত জিয়া সরদারের শরীরের অংশ।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, “আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান।

তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এম

Link copied!