ছবি: প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৫৪ নম্বর ঝালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বেড়া নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. তৈয়ব হোসেনের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যেই গাছ কাটার এই উৎসব চলতে দেখা যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হুমাউন কবির ও স্থানীয় সমাজসেবক মো. মিজানুর রহমান তীব্র প্রতিবাদ ও লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে দুটি দলিলে মোট ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে থাকা মাঠের একটি বড় অংশ জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বেড়া দিয়েছেন তৈয়ব হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রোপণ করা সাতটি বড় মেহগনি গাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হুমাউন কবির বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যবান গাছগুলোও কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারছে না। যদি ওই জমির ওপর তাঁর কোনো আইনি দাবি থাকে, তবে সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমি মেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “জমিটি দলিলের সূত্র ধরে বিদ্যালয়ের। তৈয়ব হোসেন দাবি করছেন মামলার মাধ্যমে তিনি জমি পেয়েছেন। যদি সত্যিই রায় পেয়ে থাকেন, তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি প্রভাব খাটিয়ে গাছ কেটে নিচ্ছেন।”
বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মো. লিটন হোসেন বলেন, “তৈয়ব হোসেন একসময় এই বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। তা না পেরে পরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অতীতে এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছিলেন তিনি। এখন ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে গাছ কাটছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৈয়ব হোসেন বলেন, “আমি আদালতের মাধ্যমে এই জমির মালিকানা পেয়েছি। তাই আমার জমির গাছ আমি কাটছি।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “গাছগুলো বিদ্যালয় থেকেই রোপণ করা হয়েছিল এবং জমিটিও এতকাল বিদ্যালয়ের দখলেই ছিল। যদি তিনি মামলায় জমি পেয়েও থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “বিষয়টি এইমাত্র জানতে পারলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসএইচ







































