ছবি: প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে এক আইনজীবীসহ ব্যবসায়ী পরিবারের ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবী সাইফুল সাদেক বাবু বাদী হয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা সাকিব হোসেনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে লক্ষ্মীপুর বাজার ব্যবসায়ী ও পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন হামলাকারীদের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ছেলে মো. মিনহাজ ও আবরারুল হক মাহিন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত সাকিব হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রদলের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং বাঞ্চানগর এলাকার সাহেদ পাটওয়ারীর ছেলে। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন মনির হোসেন, তাঁর ছেলে এপার হোসেন, শরীফ হোসেন, স্বজন মো. হাসান এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মনির হোসেনদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ১৩ জুন সকালে তোফাজ্জলের নির্মাণাধীন ভবন দখলের চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এতে বাধা দিলে সাবেক ছাত্রদল নেতা সাকিবসহ অভিযুক্তরা ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিবেশি আইনজীবী সাইফুল সাদেক বাবু বাধা দিতে গেলে তাঁকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে উত্তর তেমুহনী এলাকায় তাঁদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী ইমন হোসেন নামের এক কিশোর দাবি করেছে, সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। এরপরও তার বয়স বাড়িয়ে দেখিয়ে মনিরের স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাকিবের নেতৃত্বে আমাদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে তারা এখন আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ছাত্রদল নেতা সাকিব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, মামলার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসএইচ







































